বাংলাদেশ | রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৭ | ৮ আশ্বিন,১৪২৪

খোলা কলাম

14-12-2016 09:10:57 AM

রাজধানীতে পাবলিক বাসে যৌন নিপীড়নের ভয়াবহ দৃশ্য ও আমাদের সচেতনতা

newsImg

আমরা কেবল ধর্ষণকেই কেবল যৌন নির্যাতন বলে গণ্য করি। কিন্তু মেয়েরা যে আরও কতরকমের যৌন নির্যাতনের মুখোমুখি হন, টাচিং, ফন্ডলিং, যৌনাঙ্গ দেখানো, যৌনাঙ্গ স্পর্শ করা—-এগুলোও তো যৌন নির্যাতন। কিন্তু কেউই আমরা এগুলো নিয়ে কথা বলি না লোকলজ্জার ভয়ে।মুখ বুঁজে সয়ে গেলে এর কোন সমাধান নেই, প্রতিবাদে সোচ্চার হলেই কেবল এর প্রতিকার সম্ভব।

বাংলাদেশে যেসব মেয়ে ঘরে বা ঘরের বাইরে যৌন হয়রানির শিকার হন, তাদের একটা বিরাট অংশই সেটা মুখ বুঁজে সয়ে যান। কিন্তু অবস্থা পাল্টাচ্ছে। অনেক মেয়েই এখন সংকোচ ঝেড়ে ফেলে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদের পথ বেছে নিচ্ছেন, এমনকি উত্যক্তকারী পুরুষকে হাতে-নাতে ধরে নাকালও করছেন।

public-bus-harresmen-sk

পাবলিক বাসে তেমনি কিছু যৌন নির্যাতন আর সেসব ঘটনার প্রতিবাদ নিয়ে সময়ের কণ্ঠস্বরের আজকের আয়োজন।

রাস্তাঘাটে এরকম ঘটনার শিকার যারা হন, তাদের অনেকেই লজ্জায় মুখ বুঁজে সয়ে যান। কিন্তু অবস্থা পাল্টাচ্ছে, অনেক মেয়েই এখন প্রতিবাদ করছেন, প্রতিরোধেও পিছপা হচ্ছেন না।

ঘটনা -১ 

মতিঝিলের  অফিসে দিনের কাজ শেষে বাসে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন তিথি। বাসে প্রতিদিনের  মতো সেদিনও বেশ ভিড় ছিলো । সেই ভিড়ের মধ্যে সেদিন এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন তিনি।

নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানাতে তিনি বলেন, “আমি কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ করে অনুভব করছিলাম, আমার শরীরের পেছনের স্পর্শকাতর অংশে শক্ত কিছু এসে লাগছে। প্রথমে ভেবেছিলাম আমার পেছনের যাত্রীর হাতে হয়তো ফাইল জাতীয় কিছু আছে, যেটা আমার গায়ে লাগছে। অনেক ভিড় ছিল। আমি বুঝতে পারছিলাম না। বার বার সরে যাচ্ছিলাম। পরে সন্দেহ হলে ব্যাপারটা ভালো করে বোঝার জন্য আমি  ঘুরে দাড়াই । দেখি , আধুনিক পোশাক আশাকে আবৃত এক যুবক।  এই যুবকটিই এতক্ষণ তার পুরুষাঙ্গ ঘষছিলেন আমার 

তিথি জানান,প্রচন্ড রাগে ঘৃনায় শরীর কাপছিলো। প্রতিবাদ করলাম কিন্তু বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলাম, উল্টো আমাকেই  দোষ দিচ্ছেন যুবক!

চোখে একরাশ বিরক্তি আর ঘৃনা নিয়ে তিথি জানান, “যে লোকটা আমার সঙ্গে এরকম একটা কান্ড করলো, সে উল্টো দাবি করতে লাগলো আমিই নাকি তার শরীর ঘেঁষে দাড়িয়েছি । কিন্তু একটু দূরে বসা অন্য দুজন মেয়ে যাত্রী ব্যাপারটা দেখেছেন। তারা আমার পক্ষে সাক্ষী দিলেন। এই দুজন আমার পক্ষে দাঁড়ানোর পরেই কেবল বাসের অন্য যাত্রীরা বিশ্বাস করলেন যে ঐ সুবেশি যুবক আমাকে উত্যক্ত করছিল।

ঢাকায় গণপরিবহনে যে মেয়েদের চলাচল করতে হয়, তাদের সবার কম-বেশি এরকম অভিজ্ঞতা আছে। বাসে মেয়েদের এমন যৌন নির্যাতন প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে একজন চল্লিশোর্ধ মানুষের বক্তব্য ছিলো, “ মেয়েরা যদি উচ্ছৃঙ্খল আর খোলামেলা পোশাক পরে , তাহলে ছেলেরা এরকম করতেই পারে। তারা  যদি ধর্মীয় বিধান মেনে পোশাক পরে  চলাফেরা করতো, তাহলে এরকম ঘটতো না।”

এই ভদ্রলোকের মত অনেক সময় কিছু মানুষ এমন ঘটনার জন্য মেয়েদের পোশাক চলাফেরা ইত্যাদিকে দায়ী করে থাকেন। কিন্তু অবাক করা বিষয় হচ্ছে বোরকা পড়া মেয়েরাও এমন নির্যাতন থেকে রক্ষা পাননা।

ঘটনা- ২

ঢাকার শাহবাগ থেকে বাসে উঠার চেষ্টা করছিলেন বোরকা পড়া বছর ত্রিশের এক নারী সাথে অসুস্থ্য শাশুড়ি।সময়ের কণ্ঠস্বরের সাথে আলাপকালে এমন নিপীড়নের  শিকার ঐ  নারীর বক্তব্য ছিলো এরকম ।

“কিছুদিন আগে আমি বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আমার শাশুড়িকে ডাক্তার দেখিয়ে বাসায় ফেরার জন্য অপেক্ষা করছিলাম । তখন সন্ধ্যা ৭ টা । শাহবাগ থেকে কল্যাণপুর যেতে হবে তাই বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছি । একহাতে অসুস্থ্য শাশুড়ি অন্যহাতে ফাইলপত্র ব্যাগ ভর্তি থাকায় কয়েকবার চেষ্টা করেও বাসে উঠতে পারিনি । তখন প্রায় সাড়ে সাতটা । একটা বাস এসে দাড়ালো বেশ ভিড় ছিল বাসে। আমি শাশুড়িকে নিয়ে বাসে ওঠার সময় গেটে দাঁড়িয়ে থাকা একটা লোক আমার বুকে ভীড়ের সুযোগে  হাত দিল! অবাক হয়ে তাকালাম লোকটার দিকে, লোকটা স্থীর হয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে আছে যেন কিছুই হয়নি। অনেকটা অপমানে ও লজ্জায় চেপে গেলাম ব্যাপারটা। ভীড়ের মধ্যেই বাসায় ফেরার তাগিদ মাথায় বাসের ভেতর দাড়ালাম। অসুস্থ্য শাশুড়িকে দেখে একজন সহৃদয় ব্যক্তি তার সিট ছেড়ে দিলো। কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লাম, আমার না হোক বৃদ্ধ মানুষটার একটা বসার জায়গা হয়েছে ভেবে। এত ভীড়ের মধ্যেই বাস এলিফ্যান্ট রোডের সামনে এসে দাড়ালো।  এবার আরও বেশকিছু যাত্রী উঠলো বাসে। তিল ধারনের জায়গা নেই। আমার এক হাত বাসের হাতলে অন্যহাতে শাশুড়ির  বসা সিটের উপরে । ভীড়ের কারনে কিছুটা কুজো হয়ে দাড়াতে হয়েছিলো ।  আমার সামনেও দাঁড়িয়ে আছেন দুইটি মেয়ে। পেছনে তাকাতে পারছিলামনা। তবে কিছুক্ষন পর উপলব্ধি করলাম আমার পেছনে ‘শক্ত কিছুর স্পর্শ’!

 

প্রথমে ব্যাপারটা এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু সেই স্পর্শের চাপ ক্রমাগতই বাড়তে লাগলো। ভীষণ অস্বস্তিতে পড়েছিলাম, ভীড়ের মধ্যেই সরে সরে যাবার চেষ্টা করছি যতই ততই সেই স্পর্শ আমাকে সেটে ধরে ! এভাবেই আসাদ গেট পার হবার সময় আমি কিছুটা সাহস নিয়ে পেছনে ঘরে দেখলাম পেছনে নির্বিকার চিত্তে দাঁড়িয়ে আছে এক কিশোর! বয়স কতইবা হবে ১৮/২০ । ঠিকমতো গোফ দাড়িও উঠেনি ছেলেটার । বয়সে আমার চেয়ে অনেক ছোট। কিছুটা অবাক চোখে  বিরক্তি নিয়ে ছেলেটাকে  বললাম সরে দাড়াতে। এবার যেন কিছুটা ‘ধ্যান’  ভাংলো ছেলেটার। উলটো বিরক্তি চোখে কপালে ভাজ রেখে বললো আপনি সরে  দাড়ান, আমি কোথায় যাবো, আর সমস্যা হলে বাসে উঠছেন ক্যান? প্রাইভেট গাড়িতে যাতায়াত করেন’ ।

খুব রাগ লাগছিলো! কথা জড়িয়ে আসছিলো, মনে হচ্ছিলো, পাবলিক বাসে চড়াটা আমারই ‘অপরাধ’ হয়েছে! আপাতত চুপ থেকেই দাড়ালাম। ভেবেছিলাম এবার হয়তো সতর্ক হবে ছেলেটা। কিন্তু নাহ, বাস শ্যামলী পার হতেই আবারো সেই স্পর্শ ! এবার একটু জোরে শোরেই। তবে আমি কিছুটা সাইড হয়ে দাড়ানোর কারনে এবার সেই স্পর্শ আমার থাইয়ের কাছে লেগেছিলো। চোখ বেয়ে কান্না আসছিলো। আমার সামর্থ্য থাকলে  পাবলিক বাসে নিশ্চয়ই অসুস্থ্য শাশুড়িকে নিয়ে উঠতামনা আমি। বাস কল্যানপুর এসে থামলো। অনেক যাত্রীর সাথে শাশুড়িকে নিয়ে নেমে গেলাম। বাসায় ফিরেও খুব ভাবছিলাম, আমি তো বোরকা পরি, পর্দা মেনে চলি, তারপরও ছেলেটা এমন করলো। খুবই আপত্তিকর। শুধু আমার নয়, সব মেয়ের জন্যই এটা আপত্তিকর।”

বাসে শুধু এমন যৌন নির্যাতনই নয়, ঘটছে ভয়াবহ ধর্ষণের ঘটনা থেকে হত্যার ঘটনা !

যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকা আসার পথে বাসচালকের সহকারীর হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী। এ ঘটনায় ওই ছাত্রী রাজধানীর দারুস সালাম থানায় মামলা করেন। ২১ মে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোডে মাইক্রোবাসের ভিতরে গণধর্ষণের শিকার হন এক গারো তরুণী। ১৩ মে ময়মনসিংহের চুরখাই এলাকায় বাসচালক ও হেলপার মিলে এক তরুণীকে ধর্ষণ করে। ১১ মে রাতে রাজধানীর অদূরে সোনারগাঁয়ে বাসের মধ্যে এক তরুণীকে ধর্ষণ করে বাসচালক ও তার সহকারী। চলতি বছরের ৩ মে আশুলিয়ার বাস কাউন্টারে ট্রাংক থেকে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানায়, ওই তরুণীকে বাসে ধর্ষণের পর হত্যা করে ট্রাংকের ভেতর রাখা হয়। ১ মে চট্টগ্রামে ঈগল পরিবহনের একটি বাস থেকে লাগেজভর্তি তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এক্ষেত্রেও তরুণীটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে জানায় পুলিশ। ২৫ এপ্রিল রাজধানীর খিলগাঁওয়ে এক গৃহবধূকে মাইক্রোবাসে যৌন নির্যাতনের পর মাইক্রোবাস দিয়ে চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। ১৯ এপ্রিল ঢাকা থেকে জামালপুরগামী ট্রেনে ২-৩ বখাটের হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হন এক নারী যাত্রী। ৩০ এপ্রিল দুপুরে টাঙ্গাইলের ভুয়াপুরে শ্যালো নৌকায় দু’বোনকে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করে নৌকার মাঝিসহ একদল বখাটে। ২১ মার্চ বাগেরহাটের রামপাল এলাকায় নৌকায় গণধর্ষণের শিকার হন এক গৃহবধূ। ১ মার্চ গোপালগঞ্জ সদরের ভেন্নাবাড়ী এলাকায় এক মেয়েশিশুকে মাইক্রোবাসে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়।

২০১৪ সালের ৮ ডিসেম্বর কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনে পরিত্যক্ত একটি বগিতে এক তরুণীকে গণধর্ষণ করে দুর্বৃত্তরা। ২৪ ডিসেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডে প্রাইভেটকার থামিয়ে দুই তরুণীকে ধর্ষণ করে ছিনতাইকারীরা।

সচেতনতা ও প্রতিরোধ

এ প্রসঙ্গে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সমান ভাবে অংশ নিতে নারীদের যাতায়াত চাহিদা নিশ্চিত হওয়া অনেক বেশি দরকার৷ এ জন্য নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনসংখ্যা বৃদ্ধি, পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী বলেন, একজন নারীকে গণপরিবহনে যাতায়াতের সিট না পাওয়া, সময় মতো বাস না পাওয়া ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রতিটি ক্ষেত্রেই হয়রানির শিকার হতে হয়৷ তাই সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা থাকে এই পরিস্থিতি একটি সহনশীল পর্যায়ে আসবে৷

গণপরিবহনসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে নারী ও শিশুদের যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ২০০৮ সালের ৭ আগস্ট হাইকোর্টে একটি রিট করে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সমিতির নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের ১৪ মে হাইকোর্ট সব কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি, বেসরকারি, আধা সরকারি অফিস এবং সব ধরনের প্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহনে নারীর প্রতি যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ১২টি দিকনির্দেশনা দেয়। যার কোনোটিই যথাযথ বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

তিনি বলেন, গণপরিবহনে ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা দেশের নারী ও শিশুদের মধ্যে আতংক সৃষ্টি করেছে। বিচারহীনতার কারণেই নির্যাতনকারীরা বীরদর্পে নারীর প্রতি এসব সহিংসতা ও যৌন নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে।

দেশে নারী নির্যাতন এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্ন প্রচণ্ডভাবে উপেক্ষিত জানিয়ে তিনি আরও জানান, ঘরে-বাইরে তথা গণপরিবহনে নারী নির্যাতন চলছেই। আর প্রতিরোধকারী সংস্থার পুলিশরা যেন এসব ন্যক্কারজনক কাজ চেয়ে চেয়ে দেখছেন। চুরি-ডাকাতিসহ বেশ কিছু ঘটনায় আসামি ধরার সফলতা থাকলেও নারীদের সম্মান রক্ষা ও নির্যাতন প্রতিরোধে তাদের ভূমিকা শূন্য।

আমাদের কথা

গণপরিবহনে নারী ধর্ষণ কিংবা যৌন নির্যাতন কোনোভাবেই কাম্য নয়। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আইনশৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিকভাবে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। নারীদের সম্মান রক্ষায় কেবল নারীরাই নয়, সম্মিলিতভাবে পুরুষদেরও এগিয়ে আসতে হবে।আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা নারী নির্যাতনকারীদের ধরতে বদ্ধপরিকর থাকবে এটাই আমাদের কাম্য ।

খবরটি সংগ্রহ করেনঃ- আই-নিউজ২৪.কম
এই খবরটি মোট ( 835 ) বার পড়া হয়েছে।
add

Share This With Your Friends