বাংলাদেশ | সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৭ | ৯ আশ্বিন,১৪২৪

স্বাস্থ্য কথা

10-11-2016 10:18:41 AM

ক্যান্সার সৃষ্টিকারী নতুন সাত বাহক

newsImg

সারাবিশ্বে ক্যান্সার বিস্তারের মাধ্যম দিনদিন বেড়েই চলেছে। ক্যান্সার সৃষ্টিকারী নতুন আরো সাতটি বাহকের খোঁজ মিলেছে সম্প্রতি। এর মধ্যে পাঁচটি ভাইরাস আর অন্য দুটির একটি রাসায়নিক মৌল কোবাল্ট ও তার কয়েকটি যৌগ। অপরটি একটি জৈব যৌগ।

ক্যান্সারের এই সম্ভাব্য স্রষ্টাদের (কার্সিনোজেনিক) নতুন ওই সাত তালিকার নাম প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডিপার্টমেন্ট অফ হেল্থ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস’। আর সেই তালিকাটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র কাছে জমা দিয়েছেন তারা।

গত ৩ নভেম্বর এটি প্রকাশের ফলে ক্যান্সার সৃষ্টিকারীর সম্ভাব্য বাহকের সংখ্যা বেড়ে হলো ২৪৮।

 

এ বিষয়ে ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ এনভায়রনমেন্টাল হেল্থ সায়েন্সেসে’র মিডিয়া সেলের মুখপাত্র লিন্ডা বার্নবউম বলেছেন, ‘ ক্যান্সার সৃষ্টিকারী এই সাতটি বাহকের মধ্যে পাঁচটিই ভাইরাস।

ভাইরাস পাঁচটি হলো – (১) মানুষের শরীরে থাকা ‘টি-সেল লিম্ফোট্রোপিক ভাইরাস টাইপ-ওয়ান’, (২) ‘এপস্টিন-বার ভাইরাস’, (৩) ‘কাপোসি সারকোমা-অ্যাসোসিয়েটেড হার্পস-ভাইরাস’, (৪) ‘মার্কেল সেল পলিওমা ভাইরাস’ এবং (৫) ‘হিউম্যান ইমিউনো-ডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস টাইপ-ওয়ান’ (এইচআইভি-ওয়ান)।

আর বাকি দুটি ক্যান্সার সৃষ্টিকারীর অন্যতম একটি রাসায়নিক মৌল কোবাল্ট ও তার কয়েকটি যৌগ। অন্যটি একটি জৈব যৌগ- ‘ট্রাইক্লোরোইথিলিন’।’

ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির ভাইরোলজি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ভাইরোলজিস্ট অনিতা কুলকার্নির কথায়, ‘নতুন যে পাঁচটি ভাইরাসের নাম তালিকায় জোড়া হয়েছে, তারা কম করে ২০ রকমের ক্যান্সার সৃষ্টি ও তার বৃদ্ধির কারণ হয়ে উঠতে পারে। যেমন এইচআইভি-ওয়ান ভাইরাস এইডস ছড়ানোর পাশাপাশি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাটিকেও পঙ্গু, দুর্বল করে দেয়। তার ফলে মানুষের শরীরে ক্যান্সারের স্রষ্টা অন্য ভাইরাসগুলোকে প্রতিরোধে শারীরিক ক্ষমতাও তা কমিয়ে দেয়। 
জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিউনোলজি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর অনিতা সরকার বলছেন, ‘ওই ভাইরাসগুলো ছাড়া ক্যান্সারের বাকি দুই সম্ভাব্য উপাদানের অন্যতম- জৈব যৌগ ‘ট্রাইক্লোরোইথিলিন’ মূলত হাইড্রোফ্লুরোকার্বনের শিল্পোৎপাদনে কাজে লাগে। সেনাবাহিনীতেও এর ব্যবহার হয়।

আর রাসায়নিক মৌল কোবাল্ট ও তার বিভিন্ন রকমের যৌগের বহুল ব্যবহার হয় রিচার্জিয়েবল ব্যাটারি, টাইলস, সেরামিকস আর নীল ছোপ ছোপ কাচে। সৌর প্যানেলেও ব্যবহার হয় কোবাল্ট ও তার কয়েকটি যৌগের। অন্যান্য প্রাণীর শরীরে ক্যান্সার সৃষ্টিতে কোবাল্টের ভূমিকা ইতোমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে। তবে মানুষের শরীরে তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ এখনও মেলেনি। কিন্তু কোবাল্ট ও তার কয়েকটি যৌগ কীভাবে প্রাণীর শরীরে ক্যান্সার সৃষ্টির কারণ হয়ে উঠছে, তা গবেষণাগারে পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। তবে কোবাল্ট থেকে যেহেতু আধানযুক্ত কণা (চার্জড্ পাটিক্ল বা আয়ন) বেরিয়ে আসে শরীরের ভেতর, তাই সেগুলো আমাদের ডিএনএরও প্রচুর ক্ষতি করতে পারে।

তিনি বলেন- যার ফলে, তার ক্যান্সারের কারণ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে যথেষ্টই। কোবাল্টে অবশ্য ভিটামিন বি-টুয়েলভেও পাওয়া যায়। তবে প্রোটিন সেই কোবাল্টকে শক্তিশালী বাঁধনে বেঁধে রাখে বলে তার থেকে আয়ন বেরিয়ে আসে না। তাই ভিটামিন বি-টুয়েলভে পাওয়া কোবাল্ট মোটেই ক্ষতিকারক হয় না।’

তবে আরিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর জয়তী সিংহ বলছেন, এই ভাইরাসগুলোকে ক্যান্সার সৃষ্টির সাম্ভাব্য কারণ বলা হচ্ছে। তার মানে এই ভাইরাসগুলোই যে ক্যান্সার সৃষ্টির কারণ তা শতভাগ বলা যাবে না।

খবরটি সংগ্রহ করেনঃ- আই-নিউজ২৪.কম
এই খবরটি মোট ( 340 ) বার পড়া হয়েছে।
add

Share This With Your Friends