বাংলাদেশ | শনিবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৮ | ৬ আশ্বিন,১৪২৫

বিরোদী দল

27-01-2018 03:25:09 PM

রায় ঘিরে পাল্টাপাল্টি হুশিয়ারি

newsImg

বিএনপিকে ছাড়ানির্বাচন করতেই তড়িঘড়ি করে রায়: মির্জা ফখরম্নল রায় ঘিরে কেউ বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায় ঘিরে পাল্টাপাল্টি হুশিয়ারি এসেছে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছ থেকে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীর শুক্রবার ঢাকার এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, বিএনপিকে ছাড়া নির্বাচন করতে চায় সরকার। তাই তড়িঘড়ি করে খালেদা জিয়ার মামলার রায় দেয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার আট-নয় বছর ধরে আছে। জোর করে ক্ষমতায় থেকে প্রতিটি মুহূর্ত, সময়, দিন, ক্ষণে তারা হুমকি দিয়েছেন। শক্তি ও বলপ্রয়োগ করেছেন। ভিন্নমত পোষণকারী কাউকেই তারা সুযোগ দিতে রাজি নয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়ার বিষয়টি সরকার আগেই ঠিক করে রেখেছে। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী যা চাইবেন রায়ে তাই হবে।
আর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, তাদের চেয়ারপারসনের মামলায় 'নেতিবাচক' কোনো রায় হলে তার পরিণতি 'ভয়াবহ' হবে।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, খালেদা জিয়ার মামলার রায় নিয়ে দেশে আবার কোনো জ্বালাও-পোড়াও হলে তাতে বিএনপিই পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে। হুশিয়ারি এসেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের দিক থেকেও। তিনি বলেছেন, রায় ঘিরে কেউ বিশৃঙ্খলা বা ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
পাল্টাপাল্টি এই বক্তব্যের মধ্যেই শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়ে জরম্নরি বৈঠকে বসছেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। 
আগামী ৮ ফেব্রম্নয়ারি জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করবে ঢাকার পঞ্চম জজ আদালত। বিএনপি-জামায়াত জোটের ২০০১-২০০৬ মেয়াদের সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের এ মামলার প্রধান আসামি।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে এ মামলায় খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদ- হতে পারে। সেক্ষেত্রে তিনি আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার অযোগ্য হয়ে পড়বেন। 
বিএনপি অভিযোগ করে আসছে, ক্ষমতাসীনরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে 'অন্ত্মঃসারশূন্য' এই মামলাকে এ পর্যন্ত্ম নিয়ে এসেছে।
দলের স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনের আগে বছরখানেক হাতে থাকতে ওই রায় সামনে রেখে শনিবারের বৈঠকটি অত্যন্ত্ম গুরম্নত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।
আরাফাত রহমান কোকোর তৃতীয় মৃতু্যবার্ষিকী উপলক্ষে সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের কথায় বিএনপি নেতাদের মনোভাবের কিছু আভাস পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, '৮ ফেব্রম্নয়ারি যেটা আমরা আশঙ্কা করছি, সেদিন নেতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত্ম সরকার কর্তৃক আদিষ্ট হয়ে যদি আদালত থেকে প্রকাশ পায় তাহলে আমার মনে হয় তখন থেকে এই সরকারের পতনের ভিত্তিপ্রস্ত্মর স্থাপিত হবে।'
ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে এই বিএনপি নেতা বলেন, 'সময় বলে দেবে কে নেতৃত্ব দেবে, আর কে রাজপথে থাকবে। সরকারকে বলব, জেলের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমরা তো খালেদা জিয়ার সাথে বৃহত্তর কারাগারেই আছি। আমরা সবাই খালেদা জিয়ার জেল পার্টনার।'
খালেদার রায় ঘিরে বিএনপি এখন পর্যন্ত্ম কোনো কর্মসূচি না দিলেও গয়েশ্বর বলছেন, 'আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু করার ঘোষণা দিই বা না দিই, এমন কিছু যে ঘটবে না- সে নিশ্চয়তা আমরা দিতে পারি না।'
সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে আওয়ামী লীগ নেতা হাছান মাহমুদের বক্তব্যে পাল্টা হুশিয়ারি আসে।
তিনি বলেন, 'আমরা দেখলাম, তারা বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার যদি শাস্ত্মি হয় তবে নাকি দেশে আগুন জ্বলবে। মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীর সাহেব, রিজভী সাহেব ও বিএনপির নেতাদের বলতে চাই, আপনারা দেশে অতীতেও আগুন জ্বালিয়েছেন। সেই আগুনে আপনারা জ্বলেছেন। আবারও যদি আগুন জ্বালানের চেষ্টা করেন তাহলে সেই আগুনে আপনারাই জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাবেন।'
তার ভাষায়, খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন আদালত 'স্বাধীন ছিল না' বলেই বিএনপি নেতারা মনে করেন, সরকারের ইচ্ছায় রায় হয়।
'তারা মনে করেন, তাদের সময়ে আদালত যেভাবে কাজ করত, এখনো মনে হয় আদালত সেভাবেই কাজ করে। এখন আদালত স্বাধীন। খালেদা জিয়া হয়ত খালাসও পেতে পারেন।'
হাছান মাহমুদ অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যখন এগিয়ে চলছে তখন 'একটি চক্র' দেশকে অস্থিতিশীল করার 'ষড়যন্ত্র' করছে।
তিনি বলেন, 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা, খালেদা জিয়ার আদালতে যাওয়া আসার ঘটনা, মির্জা ফখরম্নলের বক্তব্য, রিজভী আহমেদের বক্তব্য সবগুলো একই সূত্রে গাথা।'
খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের দিন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, 'খালেদা জিয়ার বিচারের রায় হবে। রায়ের আগে বা পরে দেশে বিশৃঙ্খলা চালানোর অপচেষ্টা করা হবে। সরকারি দলের নেতাকর্মী হিসেবে জনগণের পাশে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য। জনগণকে সাথে নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের পেট্রলবোমা বাহিনীকে প্রতিহত করতে অতন্দ্র প্রহরীর মতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।'
দুই পক্ষের এই বক্তব্য নিয়ে শুক্রবার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রশ্ন করেছিলেন সাংবাদিকরা। জবাবে তিনি বলেন, আগামী ৮ ফেব্রম্নয়ারি এই রায় ঘিরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করা যাবে না।
'আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আগের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে তুলনা করা যাবে না। কারণ তারা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ। পেশাদার এবং জনগণের বন্ধু। সুতরাং জনগণের ক্ষতি হলে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।'
এদিকে শুক্রবার ফেনীতে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রম্নহুল কবির রিজভী বলেছেন, খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। সহায়ক সরকার না করে শেখ হাসিনাকে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান রেখে একতরফা নির্বাচনের চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করা হবে। 
রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না। নেত্রীকে হয়রানি করে নির্বাচন থেকে দূরে রাখবেন সেটা শেখ হাসিনা পারবেন না। সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী, বাংলাদেশের গণমানুষের নেত্রী, জাতীয়বাদী শক্তির প্রতিকৃত তাকে বাদ দিয়ে শেখ হাসিনা দেশে কোনো নির্বাচন করতে পারবেন না।
তিনি বলেন, যে মামলা দেয়া হয়েছে তার মধ্যে নূ্যনতমও বিএনপি চেয়ারপারসন ঘনিষ্ঠতা নেই, সম্পর্ক নেই। জাল নথি, অসত্য তথ্য বানোয়াট বিভিন্ন অভিযোগ দায়ের করে হয়েছে তা হয়রানি করার জন্য।
বিএনপি এ নেতা বলেন, 'আমি মনে করি দেশের মানুষ হচ্ছে সবচেয়ে বড় বিচারের দায়িত্বে, তারাই হচ্ছে বড় শক্তি। সে শক্তির সামনে সরকারের অশুভ কোনো ইচ্ছা পূরণ সম্ভব হবে না।'
অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায় ঘোষণার দিনকে ফয়সালার দিন উলেস্নখ করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ওই দিন বিএনপি চেয়ারপারসনের গায়ে যদি ফুলের আঁচড়ও পড়ে বাংলাদেশের মানুষ গর্জে উঠবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং এরশাদ বেগম জিয়াকে জেলে পাঠাতে চান দেশবাসী সেটা জানে। তাদের এই আক্রোশ দেশবাসী মানবে না। রাস্ত্মায় কে নামল কে নামল না এটা নিয়ে কিছু বলার নেই। বাংলাদেশের মানুষ কখনও বসে থাকবে না।
দুদু বলেন, 'আমরা যদি আন্দোলন একবার শুরম্ন করি আপনাকে (শেখ হাসিনা) পরাজিত করার আগে রাস্ত্মা থেকে ঘরে ফেরার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের নেত্রী অতীতে এরশাদের পতন না ঘটিয়ে নির্বাচনে যাননি। যদি বিবেচনায় আসেন ভালো আর যদি না আসেন ৮ তারিখ থেকেই বাংলাদেশের মানুষ বিএনপির নেতৃত্বে রাজনৈতিকভাবে অন্যায় অত্যাচার প্রতিরোধে গর্জে উঠবে।'
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে সাবেক এ ছাত্রনেতা বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী আপনাকে বলি একদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবেরও পাকিস্ত্মানিরা বিচার করেছিল। তাকে সাজা দিয়েছিল এবং কারাগারেও রেখেছিল। তাতে কি পাকিস্ত্মান রক্ষা পেয়েছিল। শেখ মুজিব কি জাতির কাছে ছোট হয়েছিল? না-কি বীর সন্ত্মান হিসেবে শেখ মুজিব জাতির কাছে আবির্ভূত হয়েছিল। আপনি তার কন্যা হিসেবে একটু ভাবেন, চিন্ত্মা করেন তাহলে বুঝতে পারবেন জেলে ভরলেই সমস্যার সমাধান হয় না। সাজা দিলেই গণতান্ত্রিক আন্দোলন ঠেকানো যায় না।'
'তাই আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলব সময় থাকতে সাবধান হোন। আমরা আপনাকে পরাজিত করতে চাই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। গণতান্ত্রিক বিধিব্যবস্থা রক্ষা করতে চাই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে।'
বিএনপির এই নেতা বলেন, 'বিএনপির জন্মই হয়েছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং রক্ষা করার জন্য। বিএনপি যদি ওই ধরনের নির্বাচনে যায় ওই দিনই তো আমাদের মৃতু্য হবে। জেনে শুনে আমরা তা করবো এটা যদি আপনারা প্রত্যাশা করেন তাহলে বুঝব বোকার স্বর্গে বাস করছেন।'

খবরটি সংগ্রহ করেনঃ- i-news24.com
এই খবরটি মোট ( 325 ) বার পড়া হয়েছে।
add

Share This With Your Friends