বাংলাদেশ | শুক্রবার, জুলাই ২০, ২০১৮ | ৫ শ্রাবণ,১৪২৫

জাতীয়

08-01-2018 10:31:51 AM

শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

newsImg

স্টাফ রিপোর্টার : পৌষের শীতের অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে গতকালের তাপমাত্রা। গতকাল রোববার সকালে রাজশাহীতে এ বছরের সর্বনিম্ন ৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, প্রতি ৬ ঘণ্টা পর পর সারাদেশের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সে হিসেবে রাজশাহীতে সবনিম্ন এই তাপমাত্রার রেকর্ড হয়। এবারের শীত মৌসুমে শনিবার চুয়াডাঙ্গা ও রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫ দশমিক ৩ ও যশোরে ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রিতে নামে। রংপুর বিভাগের সবগুলো জেলায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বইছে। সেই সাথে রয়েছে ঘনকুয়াশা। 
অব্যাহত তীব্র শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে গোটাদেশ। হীমশীতল আর ঘনকুয়াশায় জনজীবনে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। কাজে বের হতে না পারায় নিম্ন আয়ের মানুষ পড়েছেন বিপাকে। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না কেউ। ঠান্ডা নিবারণের গরম কাপড় না থাকায় গরীব মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকেই। তবে শ্রমজীবী মানুষগুলো পড়েছেন বেশ বেকায়দায়। সবচেয়ে বেশি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে দিনাজপুর, রংপুর, রাজশাহী, পাবনা ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের ওপর দিয়ে। কনকনে ঠান্ডা আর হিমশীতল বাতাস শীতের তীব্রতা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। ঘন কুয়াশার মধ্যে মহাসড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে যান চলাচল করছে। শীতে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে শিশু ও বৃদ্ধ রোগীর সংখ্যা।
শৈত্যপ্রবাহে হাড় কাঁপানো কনকনে শীতে বিপর্যন্ত উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রা। বিশেষ করে তিস্তা, ব্রক্ষপুত্র নদীর চরাঞ্চলের মানুষের অবস্থা করুণ। হিমশীতল বাসাতে শীত বস্ত্র না থাকায় মানুষ পড়েয়ে বিপর্যস্তকর অবস্থায়। জেলা শহরগুলোতে ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। প্রচন্ড শীতে কোথাও শীত বস্ত্র বিতরণ করতে দেখা যাচ্ছে না। 
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, স্মরণকালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রাজশাহীতে। তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৪ দশমিক ৩-এ। ১৯৭২ সালের পর এবার নামলো সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। তাপমাত্রা কমে যাবার ফলে প্রচন্ড শীত অনুভূত হচ্ছে। বিপর্যস্ত জনজীবন। আবহাওয়া বিভাগের হিসাবে তাপমাত্রা দশ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নীচে নেমে যাওয়া মানে শৈত্যপ্রবাহ। কদিন ধরে তাপামাত্রা নামছে। বইছে উত্তর থেকে হিমালয় ছুয়ে আসা হিমেল বাতাস। তাপমাত্রা কমার কারণে মানুষ যতটা না কাহিল হচ্ছে তার চেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হচ্ছে হিমেল হাওয়ায়। হিমেল হাওয়া যেন হাড় পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিচ্ছে। দিনভর সূর্যের দেখা নেই। বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় ছিন্নমূল মানুষ ডাস্টবিন থেকে পলিথিন খড়কুটো কুড়িয়ে তা জ্বালিয়ে উত্তাপ নেবার চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রতিদিনের শ্রমবিক্রির হাট তালাইমারী আর গোরহাঙ্গা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ডালি কোদাল হাতে জবুথবু হয়ে বসে আছে ক’জন। তাদের কাজে নেবার লোক নেই। গতকাল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে শীতে আক্রান্ত বিশেষ করে ভাইরাল ডায়রিয়ার রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এমনিতে সব সময় হাসপাতালে থাকে অতিরিক্ত রোগী। তাদের ঠাই নিতে হয় মেঝে বারান্দায়। ওয়ার্ডের বাইরের বারান্দায় অবস্থান নেয়া রোগী ও তার স্বজনদের অবস্থা ছিল করুন। ওরা শীতে আরো কাহিল হয়ে পড়েছে। শীতের তীব্রতা থেকে নিঃস্ব দুস্থদের বাঁচানোর জন্য শীত বস্ত্র নিয়ে এখনো তেমন তৎপরতা দেখা যায়নি। 
শীতের তীব্রতা বেড়ে যাবার কারনে কোল্ড ইনজুরির মুখে পড়েছে বোরোর বীজতলা। বিরুপ প্রভাব পড়ছে আলু সরিষা মশুরসহ বিভিন্ন ফসলের উপর। কৃষি বিভাগ বলছে এখনো তেমন ক্ষতির সম্মুখিন হয়নি। তবে এমন শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে ফসলের সমূহ ক্ষতি হবে।
বরিশাল থেকে বিশেষ সংবাদদাতা জানান, সম্প্রতিককালের ভয়াবহ হীম ঠান্ডায় কাঁপছে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল। গতকাল সকালে বরিশাল তাপমাত্রার পারদ ৭.৮ ডিগ্রী সেলসিয়াসে নেমে যায়। যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৪.১ ডিগ্রী সেলসিয়াস কম। গত শুক্রবার বরিশালে মওসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসে হ্রাস পাবার পারদিনই তা মওসুমের প্রায় স্বাভাবিক অবস্থানে- ১১.২ ডিগ্রী সেলসিয়াসে বৃদ্ধি পেলেও মাত্র ২৪ ঘন্টার মাথায়ই গতকাল তা ৭.৮ ডিগ্রী সেলসিয়াসে হ্রাস পেল। তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৪ ডিগ্রী নিচে নেমে যাবার পাশাপাশি উত্তর-পশ্চিমের হীমেল হাওয়ায় সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল এখন কাঁপছে।
দক্ষিণাঞ্চলের ১১টি জেলায় এবার প্রায় ৩ লক্ষাধিক হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের মাধ্যমে ১২ লাখ ১৮ হাজার টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিককালের নজিরবিহীন এ শৈত্য প্রবাহে সারা দেশেই বোরো বীজতলা এখন কোল্ড ইনজুরীর আশঙ্কার কবলে। পাশাপাশি গোল আলুর উৎপাদনও এ শৈত্য প্রবাহের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হবার আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে। 
এদিকে হীম শীতল ঠান্ডার সাথে মেঘনা অববাহিকায় মাঝারী কুয়াশায় গতকাল রাতের শেষ প্রহরে রাজধানীর সাথে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের নৌযোগাযোগও চরম বিপর্যয়ের কবলে পরে। ঢাকা ও বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটের যাত্রীবাহী নৌযানগুলো মেঘনা ও এর শাখা নদ-নদীগুলোতে ২-৩ ঘন্টা আটকে ছিল শেষ রাতে। ফলে অর্ধ লক্ষাধিক যাত্রীকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় গতকাল সকালে। 
আবহাওয়া বিভাগের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন আন্দামান সাগরে একটি লঘু চাপ সৃষ্টি হয়েছে। উপমহাদেশেীয় উচ্চ বলয়ের বর্ধিতাঙ্ক ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঙ্ক পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। অস্থায়ী মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকায় হালকা থেকে মাঝারী কুয়াশা পড়তে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
দিনাজপুর অফিস জানায়, অব্যাহত শৈত্য প্রবাহে দিনাজপুরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। রোববার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিকেল ৩টার পর ক্ষনিকের জন্য দেখা মেলে সূর্যের। তীব্র বাতাসের সাথে কনকনে শীতের জন্য স্বাভাবিক জীবনযাত্রা দারুণভাবে ব্যাহত হয়। রাস্তাঘাটে লোক চলাচল কমে গেছে। সন্ধ্যার পর জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ী থেকে বের হচ্ছেন না। শৈত্য প্রবাহে দিন মজুরেরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধদের। স্থানীয় আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, শৈত্য প্রবাহ আরও ২ দিন অব্যাহত থাকবে।
কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদাতা জানান, কুড়িগ্রামে জেঁকে বসেছে শীত। হাড় কাঁপানো শীতে জবুথবু অবস্থা জনজীবনে। গতকাল রোববার সূর্য উঁকি দিলেও ছিল না তেমন তেজ। দিনভর বাতাসে ছিল শীতের দাপট। বেলা গড়তেই বাড়তে থাকে শীত। ঘর থেকে বের হলেই শরীরে কাঁপন ধরায়। শীত ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন স্থবির হয়ে পরেছে। হাসপাতালে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। কুড়িগ্রাম কৃষি আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে রোববার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বোচ্চ ২০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, শীত কাতর মানুষেরা খড়-কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তাসহ ১৬টি নদ-নদীর অববাহিকায় ৪ শত ২০টি চরের মানুষ গরম কাপড়ের অভাবে তীব্র শীত কষ্টে ভুগছে। তীব্র ঠান্ডা ও শৈতপ্রবাহে কাজে বের হতে পারছে না কর্মজীবী মানুষেরা। দুর্ভোগ বাড়তে থাকায় বিপাকে পরেছে এসব হতদরিদ্র মানুষ। জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান জানান, শীতের দাপট কিছুটা বেড়েছে। শীতার্তদের জন্য ৯ উপজেলায় ৫৭ হাজার কম্বল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। 
লালমনিরহাট থেকে মোঃ আইয়ুব আলী বসুনীয়া জানান, গত ৫ দিনের একটানা তীব্র শীতে লালমনিরহাট জেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পরেছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষগুলো তীব্র শীতের কারনে কাজে যেতে পারছেনা। সন্ধা নামার সাথে সাথে শৈত্য প্রবাহের ফলে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় লোকজন দ্রুত ঘরমুখি হওয়ার কারনে শহরে লোকজনের দেখা মিলছেনা। তীব্র শীতের কারনে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাগুলোতে ছাত্র/ছাত্রীর উপস্থিতি একেবারে কমে গেছে। তীব্র শীতের কারনে ছোট শিশুদের বিভিন্ন রোগের প্রার্দুভাব দেখা দিয়েছে। হাসপাতাল গুলোতে শিশুরোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মাদারীপুর জেলা সংবাদদাতা জানান, মাদারীপুরে অন্যান্য বছর নভেম্বরের শেষে শীতের দাপট শুরু হলেও এবছর জানুয়ারির শুরুতে শীতের দাপট শুরু হয়েছে। চলতি বছরের শীতের প্রথম আঘাত এটি। এতে জনজীবন কিছুটা স্থবির হয়ে গেছে। 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রচন্ড শীতে মানুষের পাশাপাশি গৃহপালিত পশু-পাখিও কষ্ট পাচ্ছে। সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত চারদিক কুয়াশায় ঢাকা পড়ছে। রাতে বৃষ্টির ন্যায় ঝিরঝির করে কুয়াশা ঝরছে। প্রচন্ড শীতে সাধারণ মানুষ কাজে যেতে পারছে না। শ্রমিক শ্রেণির এসব মানুষ সন্তান পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিনাতিপাত করছে। অন্যদিকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম কাঠালবাড়ি শিমুলিয়া নৌরুটে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আলো গড়িয়ে অন্ধকার হলে ক্রমেই বাড়ে কুয়াশার তীব্রতা। রাত ঠিক ১০টার পরে, ঘণকুয়াশায় চারিদিক অস্পষ্ট হয়ে উঠে পদ্মা নদী। ফলে বাধ্য হয়ে মাঝ নদীতে নোঙর করতে হয় ফেরিসহ অন্যান্য নৌযান। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ে নৌযানে থাকা যাত্রী সাধারণকে। গত দেড় মাস যাবত, এমনই চিত্র দেশের অন্যতম কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌরুটে। এর জন্যে নৌযান চালকরা, দায়ী করছে রুটের আলোর স্বল্পতাকে। আর পরিবহন চালকরা দেখছেন, ঘাটের অব্যবস্থাপনাকে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবী, অল্পদিনের মধ্যে সমস্যা সমাধান হবে।
আরো জানা গেছে, শীতের তীব্রতায় কাহিল হয়ে পড়েছেন ছিন্নমূল মানুষ। পর্যাপ্ত কাথা কম্বলের অভাবে নির্ঘুম রাত পার করছেন তারা। তবে শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষায় দুঃস্থ্যদের মাঝে সরকারি বেসরকারিভাবে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণের কথা জানায় জেলা প্রশাসন।
নীলফামারী সংবাদদাতা জানান, গত চার দিন ধরে কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে নীলফামারী। সেই সাথে হিমেল বাতাশ আর শৈত্য প্রবাহে কাহিল হয়ে পড়েছে এখানকার জনজীবন। এতে করে চরম বেকায়দায় পড়েছে খেটে খাওয়া ও নিম্ম আয়ের মানুষজন। কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল বাতাসে কাবু হয়ে পড়েছেন তারা। দিনভর ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকছে পথ-ঘাট। রাতে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মতো কুয়াশাপাত হচ্ছে। তীব্র শীতের কারণে স্কুল ও কলেজ গুলোতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে গেছে। এদিকে শীত বস্ত্রের অভাবে শীতার্ত মানুষজন খড়কুটে জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। সবচেয়ে বেশী বেকায়দায় পড়েছে বয়স্ক ও শিশুরা। উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও হাসপাতাল গুলোতে শীতজনিত রোগীদের ভীড় বাড়ছে। 
পাবনা থেকে মুরশাদ সুবহানী জানান, পাবনায় স্মরণকালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পাবনায় রেকর্ড করা হয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ৫ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদী আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আব্দুল খালেক জানিয়েছেন, এরচেয়ে তাপমাত্রা আর নিচে নামবে না। তার ভাষ্য, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাপমাত্রা বাড়বে। দরিদ্র মানুষ চরম কষ্টে পড়েছেন। সাধ্যানুসারে সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেট থেকে শীতবস্ত্র কিনে কোন মতে শীতের কবল থেকে রক্ষা পেতে চাইছেন। তীব্র শৈত্য প্রবাহ, আর ঘন কুয়াশার মধ্যে মহা সড়কগুলোতে ধীরগতিতে যান চলাচল করছে। পাশাপাশি কিছুটা সিডিউল বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে ট্রেন চলাচল। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষগুলো দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কাজের উদ্দেশ্যে শহরে এসে প্রচন্ড শীতের মধ্যে এক জায়গায় জড়ো হয়ে ঘঢ়-কুটু আর কুড়ানো কাগজ জ্বালিয়ে হাতের তালু গরম করছেন। জেলা প্রশাসক মোঃ জসিম উদ্দিন ও জেলা সিভিল সার্জন তাহজ্জেল হোসেনের পক্ষ থেকে মানুষজনকে শীত জনিত স্ট্রোক থেকে রক্ষা পেতে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। 
নওগাঁ জেলা সংবাদদাতা জানান, গত কয়েক দিনের টানা শৈত প্রবাহ ও উত্তরের হিমেল হাওয়ার কারণে নওগাঁয় জেঁকে বসেছে প্রচন্ড শীত। এদিকে প্রচন্ড শৈত প্রবাহ ও শীতের কারণে রোববার দুপুরে আব্দুল জলিল (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বৃদ্ধ আব্দুল জলিল উপজেলার সিম্বা গ্রামের বাসিন্দা। চলতি শীত মৌসুমের পৌষ মাসের বেশির ভাগ সময় অতিবাহিত হলেও তেমন কোন শীতের প্রকোপ দেখা যায়নি। তবে গত ৪/৫ দিন আগে থেকে একেবারে জেঁকে বসেছে প্রচন্ড শীত। দুপুর নাগাদ কিছুটা হালকা রোদের দেখা মিললেও শেষ বিকেল থেকে পরের দিন দুপুর পর্যন্ত উত্তরের হিমেল হাওয়ায় এবং ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে খেটে খাওয়া শ্রমজীবি, কর্মজীবি সাধারণ মানুষরা পড়েছেন চরম বেকায়দায়। অনেকেই সকাল অথবা সন্ধ্যায় খড়-কুটায় আগুন জেলে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। কাজ ছাড়া ঘরের বাহিরে বের হচ্ছেন না কেউ।
পত্মীতলা (নওগাঁ) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, নওগাঁর পত্মীতলাসহ আশে পাশের উপজেলা গত তিনদিন ধরে বয়ে চলেছে মৃদু শৈত্য প্রবাহ। 
জানা যায়, ভৌগলিকভাবে নওগাঁ জেলা উত্তরের সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত হওয়ার কারণে হিমালয় থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়ায় সর্বশ্রেণি পেশার মানুষ পড়েছে চরম বেকায়দায়। বিশেষ করে ছিন্নমূল মানুষ এবং অতি দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের প্রবীণ ও শিশুরা পড়েছে চরম বেকায়দায়। শীত নিবারণের প্রয়োজনীয় গরম কাপড় না থাকায় তাঁরা ফুটপাতের দোকানে ভীড় করছে। শহরের অধিকাংশ দোকান অনেকেই দেরিতে খুলছেন শীতের কারণেই। ফুটপাতের গরম কাপড়ের দোকানে দরিদ্র মানুষকে ভীড় করতে দেখা গেছে। এদিকে হিমেল হাওয়া ও প্রচন্ড শীতের কারণে চাষীরা বোরো রোপনের জন্য মাঠে নামতে পারেনি। বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকজন কৃষককে মাঠে কাজ করতে দেখা গেছে। কয়েকজন চাষীর সাথে কথা বললে তাঁরা জানান, শৈত্য প্রবাহ কেটে গেলেই তাঁরা পুরোদমে বোরো চাষের জন্য মাঠে নামবেন। প্রচন্ড শীতের কারণে মানুষরা কোল্ড ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

খবরটি সংগ্রহ করেনঃ- Masudur
এই খবরটি মোট ( 83 ) বার পড়া হয়েছে।
add

Share This With Your Friends