বাংলাদেশ | শুক্রবার, জুলাই ২০, ২০১৮ | ৫ শ্রাবণ,১৪২৫

আন্তর্জাতিক

30-12-2017 10:15:14 AM

নিউইয়র্ক মুম্বাইয়ে ভবনে আগুন নিহত ২৬

newsImg

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও ভারতের মুম্বাইয়ে দুই ভবনে আগুন লেগে ২৭ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে এক শিশুসহ ১২ জন মারা যান। দগ্ধ হন আরও অন্তত ১৫ জন।শহরের মেয়র বিল ডি ব্লাজিও এটিকে সেখানকার সাম্প্রতিক ইতিহাসের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘোষণা দিয়েছেন। মুম্বাইয়ে লোয়ার প্যারেলে মারা যান ১৪ জন। এ ছাড়া দগ্ধ ও আহত হন আরও কয়েকজন। এক ভবনের ছাদে জন্মদিনের পার্টিতে ওই আগুন লাগে।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর ৪টা) ব্রঙ্কস চিড়িয়াখানার কাছে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে প্রথম তলা থেকে আগুনের সূচনা হয়। তারপর দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে। রাত ২টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।

অগ্নিকাণ্ডের পরপরই মেয়র বিল ডি ব্লাজিও ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তিনি বলেন, ১২ জনের মৃত্যু ছাড়াও ১৫ জন আহত হয়েছেন। এদের চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি আশঙ্কা করেন- এদের মধ্য থেকেও কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটতে পারে। ব্লাজিও বলেন, প্রাণহানির দিক দিয়ে এটি গত সিকি শতাব্দীকালের সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড।

নিউইয়র্ক ফায়ার ডিপার্টমেন্টের কমিশনার ড্যানিয়েল নিগ্রো জানান, ফায়ার ডিপার্টমেন্ট সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিটে প্রথম আগুনের খবর পায়। তিন মিনিটের মধ্যেই তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নেভানোর কাজে নামে। তিনি বলেন, নিহতদের বয়স ১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। ভবনের বিভিন্ন তলায় তারা ছিল।এ অগ্নিকাণ্ড ভয়াবহতার মাত্রার দিক দিয়ে নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক।অগ্নিকাণ্ডের পর এলাকার রাস্তা বন্ধ করে দেয় পুলিশ। হতবিহ্বল বাসিন্দারা কনকনে শীতের মধ্যে ভবনের সামনের রাস্তায় ভিড় করে দাঁড়িয়ে থাকেন। তারা প্রতি মুহূর্তের খবরের জন্য উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন।

ভিড় সামলাতে বেগ পেতে হয় পুলিশকে। ফায়ার ফাইটাররা যখন এক এক করে লাশ বের করে আনছিল তখন একজন নারী ছুটে ছুটে তাদের চেহারা দেখতে যাচ্ছিলেন। ওই নারীর মা আগুনের মধ্যে তিন তলায় আটকা পড়ে তাকে টেক্সট করেছিলেন।রাত ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার ডিপার্টমেন্টের কর্মীরা। এ ঘটনায় কোনো বাংলাদেশি হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।মুম্বাইয়ে জন্মদিন পরিণত হল মৃত্যুদিনে : রাত সাড়ে ১২টা। মুম্বাইয়ের লোয়ার প্যারেল এলাকায় কমলা মিলস নামের বাণিজ্যিক ভবনের ছাদে ‘ওয়ান এভাব’ নামের ওই রেস্তোরাঁয় তখন জন্মদিনের উৎসব চলছিল। প্রায় দেড়শ’ অতিথি সেখানে ছিলেন।

এর মধ্যে হঠাৎ রেস্তোরাঁর বাঁশের তৈরি সিলিং থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়লে ধোঁয়ায় দম আটকে ১৪ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে ১১ জনই নারী, তাদের বয়স ২০-৩০ বছরের মধ্যে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বেশিরভাগ মৃতদেহ রেস্তোরাঁটিতে নারীদের ওয়াশরুমের কাছে পাওয়া গেছে। ভারতের গণমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানায়।নিহতদের মধ্যে নিজের জন্মদিন উদযাপন করা ২৮ বছর বয়সী তরুণী খুশবু মেহতাও আছে বলে তার দাদার বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স। তিনি বলেন, আমার নাতনি মারা গেছে। তার জন্মদিন ছিল।

কেউই রেস্তোরাঁটির সুরক্ষা ব্যবস্থা আছে কিনা তা দেখার প্রয়োজন অনুভব করেনি। সেখানে আগুন নেভানোর কোনো ধরনের যন্ত্রপাতি ছিল না। এমনকি দুর্ঘটনায় বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার ঠিকঠাক রাস্তাও ছিল না। প্রশাসন এবং পুলিশ কিছুই করেনি।’প্রাণে বেঁচে যাওয়া ডা. সুলভা কে জি আরোরা টুইটারে তার ভয়ংকর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। তিনি লেখেন, ‘আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুরো এলাকা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ধোঁয়ায় ভরে যায়।

সবাই দৌড়াচ্ছিল, কেউ একজন আমাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। লোকজন আমাকে মাড়িয়ে দৌড়াচ্ছিল। একপর্যায়ে জ্বলন্ত সিলিং আমার ওপর ভেঙে পড়ে। কিভাবে আমি বেঁচে গেলাম তা এখনও জানি না।’তিন ঘণ্টার বেশি সময় চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানান দমকল বাহিনীর কর্মকর্তারা। চারতলা ওই ভবনে বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থা ও গণমাধ্যমের কার্যালয় রয়েছে।

পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এরই মধ্যে ওয়ান এভাব রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইটারে এ ঘটনায় হতাহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। মুম্বাইয়ে এমন স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছে শহর কর্তৃপক্ষ।

খবরটি সংগ্রহ করেনঃ- আই-নিউজ২৪.কম
এই খবরটি মোট ( 101 ) বার পড়া হয়েছে।
add

Share This With Your Friends