বাংলাদেশ | সোমবার, আগস্ট ২০, ২০১৮ | ৫ ভাদ্র,১৪২৫

রাজধানী

18-12-2017 09:19:21 AM

ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় ভোট

newsImg

ফের ঢাকায় ভোট হচ্ছে আগামী ফেব্রুয়ারিতে। ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে উপনির্বাচন ও দুই সিটির (উত্তর-দক্ষিণ) নবগঠিত ৩৬টি সাধারণ এবং ১২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে একই দিনে ভোট করবে নির্বাচন কমিশন (্ইসি)। এক্ষেত্রে জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল দিয়ে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাংবিধানিক এ সংস্থাটি। গতকাল নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে ঢাকার দুই সিটিতে ভোট করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল ঘোষণার আগে ভোটার তালিকার সিডি প্রস্তুত করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে মাঠপর্যায়ে ভোটকেন্দ্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজও শেষ হবে। বৈঠক শেষে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব বলেন, যেহেতু ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে উপনির্বাচনে কোনো জটিলতা নেই, তাই কমিশন জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল এবং ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে ভোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, নতুন ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মেয়াদ হবে সিটি করপোরেশনের মেয়াদ পর্যন্ত। উত্তর সিটিতে যুক্ত নতুন ১৮ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর, ছয়টি ওয়ার্ডে সংরক্ষিত কাউন্সিলর এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটির নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ও ছয়টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ভোটের জন্য তিনটি আলাদা প্রজ্ঞাপন ও তফসিল ঘোষণা করা হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে কমিশন সভায় দুই নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম ও শাহাদাত হোসেন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

এতে দুই নির্বাচন কমিশনার মতামত দেন— আইনি জটিলতা না থাকলে মেয়রের শূন্য পদে ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। উত্তরের মেয়র পদে উপনির্বাচনের সঙ্গে উত্তর-দক্ষিণের মোট ৩৬টি সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ভোট করতে হবে। তবে ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষা থাকায় শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে উল্লেখ করেন তারা। ইসি কর্মকর্তারা জানান, কমিশনের পরবর্তী সভায় ১১ জানুয়ারির মধ্যে তফসিল ঘোষণা করার প্রস্তাব রাখা হবে। এসএসসি পরীক্ষার মধ্যে নির্বাচন করা হবে না। এ জন্য ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসএসসি পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। সে জন্য ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি ভোটের উপযুক্ত সময় বিবেচনা করা যেতে পারে বলেন কর্মকর্তারা। তারা বলেন, ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ নির্বাচন শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ৩১ জানুয়ারির মধ্যে মনোনয়ন দাখিল শেষ করা, ২১ ফেব্রুয়ারির আগে ভোট করতে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনায় নেওয়া এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরীক্ষা থাকায় তাও বিবেচনায় নেওয়ার প্রস্তাব থাকবে ইসি সচিবালয়ের। মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন হচ্ছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ ১ ডিসেম্বর থেকে মেয়র পদটি শূন্য ঘোষণা করায় আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মেয়র পদ পূরণ করার জন্য ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ উপনির্বাচন আয়োজন করতে হচ্ছে ইসিকে।

 

এর আগে ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ভোট হয়। আওয়ামী লীগের সমর্থনে ওই নির্বাচনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন আনিসুল হক। প্রায় দুই বছর ধরে ওই দায়িত্ব পালনের মধ্যেই চলতি বছর জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যে গিয়ে সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিসে আক্রান্ত হয়ে আনিসুল হক হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ নভেম্বর তার মৃত্যু হয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা থেকে পাঁচ বছর মেয়াদ থাকে শপথ নেওয়া জনপ্রতিনিধিদের। উপনির্বাচনে মেয়র পদে নতুন যিনি আসবেন, তিনি মেয়াদের বাকি অংশটুকুর দায়িত্ব পালন করবেন। ২০১৫ সালে ভোটের পর ঢাকা উত্তরের প্রথম সভা হয় ১৪ মে। সে হিসেবে উপনির্বাচনে নির্বাচিত মেয়র ২০২০ সালের ১৩ মে পর্যন্ত বহাল থাকবেন।

নতুন কাউন্সিলরের মেয়াদ : স্থানীয় সরকার বিভাগ গত ২৬ জুলাই দুই সিটি করপোরেশনে ৩৬টি ওয়ার্ড বাড়িয়ে নতুন সীমানা নির্ধারণের গেজেট জারি করে। এরপর গত ৮ আগস্ট এসব ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ভোট করতে ইসিকে অনুরোধ জানানো হয়। এসব ওয়ার্ডে নতুন যারা কাউন্সিলর নির্বাচিত হবেন, তাদের মেয়াদও হবে সিটি করপোরেশনের মেয়াদ থাকা পর্যন্ত। ঢাকা দক্ষিণ সিটির ক্ষেত্রে ২০২০ সালের ১৬ মে পর্যন্ত হবে তাদের মেয়াদ। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পুরাতন ৩৬টির সঙ্গে নতুন ১৮টি ওয়ার্ড যোগ হওয়ায় মোট ওয়ার্ডের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪টি। আর দক্ষিণ সিটির ওয়ার্ড সংখ্যা ৫৭টি থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৫টি।

দুই সিটির নতুন ৩৬ ওয়ার্ড : ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে যুক্ত বাড্ডা, ভাটারা, সাঁতারকুল, বেরাইদ, ডুমনি, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও হরিরামপুর ইউনিয়নকে ৩৭ থেকে ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়েছে। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে যুক্ত শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল, সারুলিয়া, ডেমরা, মাণ্ডা, দক্ষিণগাঁও ও নাসিরাবাদ ইউনিয়নকে ৫৮ থেকে ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডে বিভক্ত করেছে সরকার। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সম্প্রসারিত ৩৮, ৩৯ ও ৪০ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে সংরক্ষিত আসনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড, ৩৭, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ১৪ নম্বর, ৪৩, ৪৪ ও ৪৫ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ১৫ নম্বর, ৪৬, ৪৭ ও ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ১৬ নম্বর, ৪৯, ৫০ ও ৫১ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ১৭ নম্বর এবং ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে সংরক্ষিত আসনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড গঠন করা হয়েছে। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্প্রসারিত ৭৩, ৭৪ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে সংরক্ষিত আসনের ২০ নম্বর ওয়ার্ড, ৭০, ৭১ ও ৭২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ২১ নম্বর, ৬৭, ৬৮ ও ৬৯ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ২২ নম্বর, ৬৪, ৬৫ ও ৬৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ২৩ নম্বর, ৬১, ৬২ ও ৬৩ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ২৪ নম্বর এবং ৫৮, ৫৯ ও ৬০ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে সংরক্ষিত আসনের ২৫ নম্বর ওয়ার্ড গঠন হয়েছে। নতুন করে ১৬টি ইউনিয়ন যুক্ত হওয়ায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার আয়তন ১২৯ বর্গকিলোমিটার থেকে বেড়ে ২৭০ বর্গকিলোমিটার হয়েছে।

খবরটি সংগ্রহ করেনঃ- Masudur
এই খবরটি মোট ( 348 ) বার পড়া হয়েছে।
add

Share This With Your Friends