বাংলাদেশ | শুক্রবার, জুলাই ২০, ২০১৮ | ৫ শ্রাবণ,১৪২৫

সরকারী দল

14-11-2017 11:12:09 AM

এবার আওয়ামী লীগের শোডাউনের প্রস্তুতি

newsImg

বিএনপির পর এবার রাজধানীতে বড় সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি দেয়া উপলক্ষে আগামী ১৮ই নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক সমাবেশ করবে তারা। আর এ সমাবেশে বড় ধরনের জনসমাগম করার প্রস্তুতি শুরু করেছে দলটি। রোববার প্রায় দুই বছর পর রাজধানীতে সমাবেশ করে বিএনপি। এতে দলটির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় পথে পথে ব্যাপক লোক সমাগম ঘটে।

 

যুক্তরাজ্য থেকে খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার দিন বিমানবন্দরের সামনে শোডাউন করে বিএনপি। বিএনপির এমন কর্মসূচির বিপরীতে পাল্টা কোনো কর্মসূচি দিতে চায় না আওয়ামী লীগ। তবে নির্বাচন সামনে রেখে  নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রাখা ও দলীয় শক্তি জানান দেয়ার লক্ষ্যে ১৮ই নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে ব্যাপক লোক সমাগমের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত এ সমাবেশে দলের নেতাকর্মী ছাড়াও নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, পেশাজীবীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেবেন। সমাবেশ সফল করতে ইতিমধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে সমাবেশ ঘিরে আলাদা আলাদা প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। সমাবেশে রাজধানীর সব থানা ও ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন। ঢাকার আশেপাশের জেলা থেকেও নেতাকর্মীরা আসবেন সমাবেশে। এতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের স্বীকৃতি প্রাপ্তি উপলক্ষে এ সমাবেশ হলেও এতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখবেন। রোববার সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দেয়া বক্তব্যের জবাবও আসতে পারে সমাবেশ থেকে। 
সমাবেশে দেয়া খালেদা জিয়ার বক্তব্যকে আক্রোশমূলক বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। রোববার দলীয় প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার ওই বক্তব্য আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি তার আক্রোশের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার বিষয়ে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনের সময় নির্বাচনকালীন সরকার দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচন কমিশনই নির্বাচন পরিচালনা করবে। রোববারের সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করলেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হচ্ছে সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী নির্বাচন হবে। ১৮ই নভেম্বরের সমাবেশ থেকেও একই বক্তব্য আসবে বলে নেতারা জানিয়েছেন। 
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক মানবজমিনকে বলেন, বিএনপি নেত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন এটি রাজনৈতিক বক্তব্য। আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে তিনি নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আসলে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের সময় যে সরকার থাকবে তারাই দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। পৃথিবীর গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে এভাবেই নির্বাচন হয়। আর বিএনপি এখনো স্পষ্ট করে বলেনি তারা কি চায়। তারা একবার বলে সহায়ক সরকার, আবার বলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনা মোতায়েনের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী আমাদের একটি গর্বের জায়গা। অতীতে তারা জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেছে। সামনে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন মনে করলে দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগের বিষয়ে তাদের তো কোনো অভিজ্ঞতা নেই। এ ধরনের দাবি তোলা অযৌক্তিক। নাগরিক সমাবেশের বিষয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষণের বিশ্ব স্বীকৃতি পুরো জাতির অর্জন। তাই নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। এতে নাগরিক সমাজের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও অংশ নেবেন। সমাবেশ প্রস্তুতির বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম বলেন, সমাবেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এতে নাগরিক সমাজ ও দলীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন। সমাবেশ সফল করতে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। সমাবেশে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি হবে বলে আমরা আশা করছি। 
এদিকে রাজধানীতে বিএনপির সমাবেশ আয়োজনের পর এটিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে আওয়ামী লীগ। এ বিষয়ে দলটির নেতারা বলছেন, সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হয় না বিএনপির এমন অভিযোগ মিথ্যা বলে প্রমাণ হয়েছে এই সমাবেশের মাধ্যমে। এর আগে বিমানবন্দর সড়ক বন্ধ করে বিএনপি বড় ধরনের শোডাউন করেছে। সেখানেও তাদের বাধা দেয়া হয়নি। এছাড়া রাজধানীতে বিএনপির সমাবেশটি শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক তৎপর ছিল। এতে সমাবেশ ঘিরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করছেন, বিএনপির এ সমাবেশ আয়োজনের ফলে তারা আর বিদেশিদের কাছেও সভা-সমাবেশ করতে না দেয়ার অভিযোগ তুলতে পারবে না। এছাড়া নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে দেয়া হচ্ছে না এমন দাবি তোলারও আর সুযোগ থাকছে না। এছাড়া সমাবেশে দেয়া বিএনপি চেয়ারপারসনের বক্তব্য তার আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ারই ইঙ্গিত বহন করে। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে এমন বার্তা স্পষ্ট হলে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নির্বাচন প্রস্তুতিতেও সহায়ক হবে বলে নেতারা মনে করছেন। 
পাল্টাপাল্টি সমাবেশ বা শোডাউন নয়: কাদের 
এদিকে ১৮ই নভেম্বরের সমাবেশ বিএনপির সমাবেশের পাল্টা সমাবেশ বা শোডাউন নয় বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, এটি পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশ। গত ৯ই ডিসেম্বর হওয়ার কথা ছিল। ওই দিন কর্মদিবস হওয়ায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর নির্দেশে তা ১৮ই নভেম্বর করার সিদ্ধান্ত হয়। তিনি বলেন, প্রথমে ৯ তারিখ (নভেম্বর) ছিল। কিন্তু ৯ তারিখ বৃহস্পতিবার ছিল। নেত্রী আমাদের বললেন, কর্মদিবসে করা যাবে না। আর শনিবার ছিল যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আর শুক্রবারে করা সম্ভব না। তাই অসুবিধা নেই পরের শনিবারে করো। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত সাংবাদিকদের আনন্দ সম্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ওবায়দুল কাদের। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি উপলক্ষে যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি (বিএফইউজে) মনজুরুল আহসান বুলবুলের সভাপতিত্বে এতে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শাবান মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী প্রমুখ। 

নিলুফার ইয়াসমিন

খবরটি সংগ্রহ করেনঃ- আই-নিউজ২৪.কম
এই খবরটি মোট ( 137 ) বার পড়া হয়েছে।
add

Share This With Your Friends