বাংলাদেশ | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৭ | ১১ আশ্বিন,১৪২৪

জাতীয়

11-04-2017 04:28:11 PM

রুগী মারা গেলেও টাকা ফেরত হবেইনা

newsImg

যেই শহরে একজন শ্রমজীবী মানুষের দৈনিক 500/- টাকা রুজি করতে মাথার ঘাম পায়ে পড়ে, সে শহরের একজন ডাক্তারের 3/4 মিনিটের ভিজিট/ ফি 1200/-(বারশত টাকা)। তাও আবার অগ্রিম দিতে হয়। 1200/- টাকা যদি ডাক্তারের ভিজিটই দিতে হয়, তাহলে রোগী ঔষধ কেনার টাকা পাবে কোথায়? আর এই টেষ্ট, সেই টেষ্ট দিলেতো রোগী অজ্ঞান হওয়ার উপক্রম। এমতাবস্থায়, রোগীকে দামী প্রেসক্রিপশন গ্লাসে ভিজিয়ে ভিজিয়ে খাওয়া ছাড়া আর কোন নিস্তার নাই। যেখানে ঢাকা-চট্টগ্রামেও একজন বড় মাপের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাক্তারের ফি 600-800 টাকা, সেখানে কুমিল্লায় একজন জুনিয়র অধ্যাপকের ভিজিট 1200/- টাকা হয় কি করে?

তবে, এ ক্ষেত্রে রোগী বা রোগীর লোকরাও কম দায়ী না। আমরা অনেকেই মনে করি যে ডাক্তার যত বেশী টাকা ফি নেয় সে-ই বোধহয় বড় ডাক্তার! বড় ডাক্তারকে বোধহয় আজরাঈলেও ভয় পায়! তাঁর শরনাপন্ন হলে সকাল সকাল আরোগ্য লাভ করা যায়। তাই আমরা বেশী টাকা ফি নেয়া ডাক্তারের পিছু ছাড়তে রাজি না। ডাক্তারের চেম্বার অগ্রিম ফি দিয়ে সিরিয়াল দিয়ে রাখি। সিরিয়াল না পেলে ডাক্তারের কম্পাউন্ডারকে 100/200 টাকা ঘুষ দিয়ে হলেও সিরিয়াল চাই-ই চাই। অথচ আমরা ভুলেই যাই এই শহরেই পাঁচশত টাকা ফি দিয়েও ভাল ভাল এফসিপিএস/এমডি ডিগ্রীধারী ডাক্তার পাওয়া যায়। আমার এলাকায় একজন এমবিবিএস ডাক্তার ছিলেন। তিনি একসময় জেলা সিভিল সার্জনও ছিলেন। তিন বছর আগে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেছেন। কিন্তু তিনি 100/- টাকার বেশী ফি নিতেন না। রোগীর ভাল-মন্দ জিজ্ঞাস করতেন। রোগীকে সময় দিতেন। উনি ইচ্ছে করলে সে সময় পাঁচশত টাকাও ফি নিতে পারতেন। কারণ উনার টিটমেন্ট ভাল ছিল। কিন্তু তিনি তাঁর মানবিক বিবেচনায় একশত টাকার বেশী নিতে না। এমনকি টাকা না থাকলে মাগনাও রোগী দেখতেন। আল্লাহ উনাকে বেহেশত নসিব করুক।

যাক, আমাদের অসচেতনতা ও অজ্ঞতার কারণে কতিপয়রা সেবার নামে আমাদেরকে ফতুর করেই চলছে। তারপরও বলব, উনি একজন সরকারি বেতনভোগী ডাক্তার হয়ে রাষ্ট্রের কোন আইনে অগ্রিম ফি রাখছেন? কোন ক্ষমতাবলে একটি জেলা শহরে রোগী প্রতি বারশত টাকা ভিজিট রাখছেন? জাতির বিবেকের কাছে প্রশ্ন রইল।।

খবরটি সংগ্রহ করেনঃ- আই-নিউজ২৪.কম
এই খবরটি মোট ( 323 ) বার পড়া হয়েছে।
add

Share This With Your Friends