বাংলাদেশ | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৭ | ১০ আশ্বিন,১৪২৪

জেনে রাখুন

12-12-2016 03:09:45 PM

যে ভাবে বুঝবেন আপনি আবেগের ফাঁদে পড়েছেন, জানিয়েছেন গবেষকরা

newsImg

সম্প্রতি করনেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, তারা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ৬ লাখ ৮৯ হাজার ফেসবুক ইউজারের আবেগ নিয়ে খেলা করেন। এতে ইউজারদের এক অংশের নিউজফিডে শুধু নেতিবাচক সংবাদ দেখান আর অন্যদের নিউজফিডে শুধু ইতিবাচক সংবাদ দেখান।

এই ইউজাররা নিজেদের আপডেট পোস্ট করতে গিয়ে তাদেরকে যেসব পোস্ট দেখানো হয়েছে, সেসবের ভাব দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। এতে গবেষকরা জানতে পেরেছেন, একজন দক্ষ আবেগের ফাঁদ তৈরিকারী লোক আপনার আত্ম-সম্মানবোধ ধ্বংস করে দিতে পারবে। আপনার মধ্যে নিজের মানসিক সুস্থতা সন্দেহ সৃষ্টি করে দিতে পারে। তবে আপনার যদি কিছু কৌশল জানা থাকে, তাহলে আপনি এমন লোককে সহজেই শনাক্ত বা চিনে নিতে পারেন। যেমন-

 * তারা অপরাধবোধ তৈরিতে অধিক দক্ষ হয়ে থাকে

আবেগের ফাঁদ তৈরিকারীরা নিজেদের অনুকুলে আপনার অপরাধবোধকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে বেশ দক্ষ। আপনি যদি বিরক্তিকর কিছু সম্পর্কে অভিযোগ করেন তারা আপনাকে এর জন্য অপরাধবোধে ভোগাবে। আবার আপনি যদি তা প্রকাশ না করেন তাহলে তা গোপন রাখার কারণে তারা আপনাকে অপরাধবোধে ভোগাবেন। এরা আপনি যা করবেন তাকেই ভুল বলবে। এমনকি নিজের কোনো সমস্যা থাকলে সেটাকেও আপনার সমস্যা বলে চালিয়ে দেবে।

* বাস্তবতা সম্পর্কে নিজের উপলব্ধির ব্যাপারে আপনার বিশ্বাসকে তারা হেয় করে
আপনার মাঝে আবেগের ফাঁদ তৈরিকারীরা অবিশ্বাস্য রকমভাবে দক্ষ মিথ্যাবাদি। তাদের স্বার্থবিরোধী কোনো ঘটনা ঘটলে তারা সেটি ঘটেনি বলে প্রমাণ করে ছাড়বে। তারা এতোটাই দক্ষতার সঙ্গে কাজটি করবে যে, শেষমেষ আপনি নিজের মানসিক সুস্থতা নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়বেন।

* কথা ও কাজে কোনো মিল নেই
সাধারণত আবেগের ফাঁদ তৈরিকারীরা আপনাকে তাই বলবে যা আপনি শুনতে চান। কিন্তু তাদের কাজ হবে ঠিক এর উল্টো। তারা আপনাকে সহযোগিতা করার কথা বলে যখন তা করার সময় আসবে তখন এমনভাবে আচরণ করবে যে আপনার সহযোগিতার অনুরোধটি যেন পুরোপুরি অযৌক্তিক। আপনার সঙ্গে পরিচিত হয়ে তারা নিজেদেরকে অনেক ভাগ্যবান বলবে। কিন্তু পরক্ষণেই এমনভাবে আচরণ করবে যে, আপনি যেন তাদের জন্য একটি বোঝা স্বরুপ। এটাও আপনাকে নিজের মানসিক সুস্থতা সম্পর্কে সন্দিহান করে তোলার আরেকটি উপায়। তারা বাস্তবতা সম্পর্কে আপনার মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করে নিজেদের অনুকুলে বাস্তবতা সম্পর্কে আপনার বুঝ তৈরি করবে।

* প্রয়োজনে তারা নিজেদেরকে ভিকটিম বলে দাবি করবে
তারা কখনোই নিজের ভুল স্বীকার করবে না। তারা কী করল বা কী করতে ব্যর্থ হলো তার জন্য সবসময় অন্যকেই দায়ী করবে। এরা কোনো ভুল করে বলবে আপনি তাকে সেটি করতে বাধ্য করেছেন। আপনি নিজে যদি পাগল হন বা মন খারাপ করেন তাহলে সেটা আপনার ভুল, কারণ আপনি অযৌক্তিক প্রত্যাশা করছেন। আবার তারা যদি পাগল হন বা মন খারাপ করেন তাহলে সেটিও আপনার ভুল। এরা কোনো কিছুরই দায় গ্রহণ করেন না।

* এরা অল্পতেই অনেক বেশি করেন
ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক সম্পর্ক যে কোনো ক্ষেত্রেই এরা দ্রুত খুব বেশি শেয়ার করবেন এবং আপনার কাছ থেকেও একই প্রত্যাশা করবেন। এরা নিজেদের অসহায়ত্ব এবং সংবেদনশীলতার চিত্রায়ন করবেন, কিন্তু তা একটি ছল মাত্র। এর মাধ্যমে তারা আপনার মধ্যে এই অনুভূতি ছড়িয়ে দিতে চায় যে, আপনাকে তারা নিজের হৃদয়ে স্থান দিয়েছেন। আর তাদের নিজেদের দুর্দশার জন্য আপনাকে দুঃখভারাক্রান্ত করা এবং তাদের অনুভূতিগুলোর জন্য আপনাকে দায়ী করাও তাদের উদ্দেশ্য।

* তারা একটি আবেগের ব্ল্যাকহোল
এদের সবচেয়ে বড় প্রতিভা হলো নিজেদের আবেগ অনুভূতি চারপাশের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার দক্ষতা। নিজেদের মেজাজ খারাপ থাকলে এরা এদের চারপাশের লোকদের মেজাজও খারাপ করে দেয়। এবং নিজেদের মেজাজ খারাপের জন্য এরা অন্যদেরকে দায়বোধে ভোগায় এবং অন্যদের মধ্যে তাদের মেজাজ ভালো করার দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলে।

* এরা আগ্রহের সঙ্গে সহযোগিতা করতে একমত হয়েও তা করেন না
এরা প্রাথমিকভাবে খুব দ্রুত সহযোগিতা করতে একমত হয়েও পরে তা করতে অস্বীকৃতি জানাবে। এমন ভান করবে যে, তাদের জন্য তা খুবই বড় ধরনের বোঝা স্বরুপ। এমনকি আপনি তাদেরকে দোষারোপ করতে গেলে তারা উল্টো আপনাকেই দোষারোপ করবে যে আপনি পাগলামি করছেন। উদ্দেশ্য একটাই আপনার নিজেকে অপারাধবোধ, দায়গ্রস্ত এবং হয়তো পাগল বোধ করানো।

* এরা সবসময় আপনার চেয়ে একধাপ এগিয়ে থাকবে
আপনি যে সমস্যায়ই থাকেন না কেন এরা তাকে আরো তীব্র করে তুলবে। আপনি কোনো অভিযোগ করতে গেলে তারা আপনাকে বলবে যে, তাদের সমস্যাটি আপনার চেয়ে গুরুতর। সুতরাং আপনি চুপ থাকুন। এরা আপনার দুর্বল বিন্দুগুলো সম্পর্কে জানেন এবং সেই জ্ঞান আপনার বিরুদ্ধে ব্যবহারে কোনো দেরি করেন না।

 

খবরটি সংগ্রহ করেনঃ- আই-নিউজ২৪.কম
এই খবরটি মোট ( 230 ) বার পড়া হয়েছে।
add

Share This With Your Friends