বাংলাদেশ | মঙ্গলবার, জুলাই ১৭, ২০১৮ | ২ শ্রাবণ,১৪২৫

বিরোদী দল

31-03-2016 11:09:53 AM

খালেদাকে গ্রেফতারের নির্দেশ

newsImg

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় করা নাশকতার মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গতকাল ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা এ আদেশ দেন। এদিকে নাশকতার দুই মামলায় দুপুরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে সন্ধ্যায় জামিনে মুক্তি পান তিনি। এর আগে বেলা সোয়া ১১টায় এক সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুলকে মহাসচিব হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ছাড়া অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও মিজানুর রহমান সিনহাকে কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও মনোনয়ন দেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এদিকে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে যুবদল আজ সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ অন্য অঙ্গ সংগঠনগুলোও পৃথক কর্মসূচি নিয়েছে। সন্ধ্যায় সম্মেলন করেছেন সদ্য ঘোষিত বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। এ সময় বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। খালেদা জিয়া ছাড়া অন্য যাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তারা হলেন— বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, যুগ্ম-মহাসচিব বরকত উল্লা বুলু, সালাহউদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন, চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সালাউদ্দিন আহমেদ ও তার ছেলে তানভীর আহমেদ, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আজিজুল বারী হেলাল, সাবেক কমিশনার এম এ কাইয়ুম, নবী উল্লাহ নবী প্রমুখ। এ মামলায় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, যুগ্ম-মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ ও সেলিম ভুইয়া জামিনে আছেন। গত বছরের ৬ মে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত শেষে খালেদা জিয়াসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে অভিযোগপত্র দেয়। অভিযোগপত্রে খালেদা জিয়াসহ ২৮ জনকে পলাতক দেখিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করে পুলিশ। গতকাল অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আদালত পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। আদালত আগামী ২৭ এপ্রিল পরোয়ানা জারিসংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দিয়েছেন। এ মামলায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাপসকুমার পাল বলেন, ‘অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আদালত খালেদাসহ পলাতক ২৮ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনমতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।’ খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ মামলায় ঘটনার দিন খালেদা জিয়া পুলিশ দ্বারা অবরুদ্ধ ছিলেন। কিন্তু খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শেষে তাকে পলাতক দেখিয়ে অভিযোগপত্র দিয়েছে।’ ২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় গ্লোরি পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে বাসের ২৯ যাত্রী দগ্ধ হন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হলে ১ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নূর আলম (৬০) নামে এক যাত্রী। ওই ঘটনায় ২৪ জানুয়ারি বিকালে খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে মামলা করে যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ।

খালেদার বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা : খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলায় উচ্চ আদালতের আদেশ দাখিলের জন্য আগামী ২৫ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল ঢাকার দ্বিতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক হোসনে আরা বেগম এ আদেশ দেন। এ মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত মোট ১৩ জন আসামি রয়েছেন। কিন্তু মানবতাবিরোধী অপরাধের রায়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় বর্তমানে আসামির সংখ্যা ১২।

মামলা বাতিলে খালেদার আবেদনে শুনানি : তদন্ত কর্মকর্তার নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা বাতিল চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আবেদনের ওপর শুনানি আজ পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। গতকাল বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি মাহমুদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি গ্রহণ করেন। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। এর আগে ৯ মার্চ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করেন খালেদার আইনজীবীরা। আবেদনে বলা হয় : দুদকের উপপরিচালক হারুন-অর-রশিদকে ২০১১ সালের ১৮ আগস্ট এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। গেজেট ছাড়া এ নিয়োগ দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২০ (২) ধারার পরিপন্থী। আইনজীবীরা জানান, জেরায় হারুন-অর-রশিদ বলেছেন, ‘আমাকে এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগসংক্রান্ত কোনো প্রজ্ঞাপন সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে কিনা তা আমি বলতে পারি না। তবে মনে হয় করা হয়নি’। এ কারণে হারুন-অর-রশিদের নিয়োগ অবৈধ দাবি করে এ মামলা বাতিলে রুল জারির নির্দেশনা চাওয়া হয়। পাশাপাশি মামলার কার্যক্রম স্থগিতেরও আবেদন জানানো হয়েছে।

ফখরুলকে মহাসচিব ঘোষণা, কারাগার ও জামিনে মুক্তি : বেলা সোয়া ১১টা। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যথারীতি প্রেস ব্রিফিং ডেকেছিলেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের নানা অনিয়ম তুলে ধরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। শেষ পর্যায়ে এসে তিনি জানালেন একটি বিশেষ ঘোষণা আছে। সবার দৃষ্টি তখন রিজভী আহমেদের দিকে। এ সময় বিএনপির দফতর সম্পাদক বললেন, বিএনপির মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব হিসেবে আমাকে ও কোষাধ্যক্ষ হিসেবে মিজানুর রহমান সিনহাকে মনোনয়ন দিয়েছেন চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে থাকা নেতা-কর্মীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। অবশ্য দুপুরেই আবারও নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিষাদের ছায়া নেমে আসে। রিজভী আহমেদ যখন সংবাদ সম্মেলন করছিলেন, তখন নিম্ন আদালতে হাজিরা দিতে যান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দুই মামলায় শুনানি চলছিল। শুনাশি শেষে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নাশকতার দুই মামলায় মির্জা ফখরুলকে কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে যেতে প্রায় দেড়টা বেজে যায়। এরপর আবার বিকাল ৪টায় ওই দুই মামলায় ফের তাকে জামিন দেওয়া হয়। এরপর সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় মুক্তি মেলে মির্জা ফখরুলের। দুপুরে তাত্ক্ষণিক এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আহমেদ জানান, মিথ্যা মামলায় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কিছুক্ষণ আগেই তাকে দলের মহাসচিব ঘোষণা করা হয়েছে। নেতা-কর্মীরা ফুল নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন তাকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য। তাকে ফুল দেওয়ার সুযোগও দিল না সরকার। তার দাবি, মির্জা ফখরুলকে মহাসচিব ঘোষণা করার পর রাজনৈতিক গতিধারা কোন দিকে যায়, সেজন্যই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর পরপরই রিজভী আহমেদের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীদের নিয়ে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নাইটিঙ্গেল মোড় পর্যন্ত গিয়ে আবার কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

দুপুরে কারাগারে সন্ধ্যায় মুক্তি : রাজধানীর পল্টন থানার নাশকতার দুই মামলায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুপুরে কারাগারে গেলেও সন্ধ্যায় তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন। এ সময় বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন। নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাকে মহাসচিব মনোনয়ন দেওয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের নেতা-কর্মীদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমার শারীরিক সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। দেশের গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা যেন যথাযথভাবে পালন করতে পারি, সেজন্য সবারই সহযোগিতা চাই।’ পরে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সরাসরি মির্জা ফখরুল চলে যান গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসভবনে। এ সময় বেগম জিয়া তাকে অভিনন্দন জানান। মহাসচিব মনোনয়ন দেওয়ায় বেগম জিয়াকে তিনি ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের মধ্যে আবদুল্লাহ আল নোমান, নাজিম উদ্দিন আলম, আবদুস সালাম, ফরহাদ হোসেন আজাদ, এস এম জাহাঙ্গীর, আবদুল মতিন, আমিরুজ্জামান খান শিমুল, কামাল আনোয়ার আহম্মেদ, ইউনুস আলী, ডা. আহসান ফিরোজ, সোহেল রানা, মাহবুবুর রহমান ছানা, মতিউর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। তাকে কারাগারে পাঠানোও হয়। বিকাল ৪টায় পুনর্বিবেচনায় জামিন দেন আদালত। ঢাকা মহানগর হাকিম গোলাম নবী এ আদেশ দেন।

মির্জা ফখরুল হঠাৎ করে শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বিষয়টি আদালতের নজরে এনে মানবিক কারণে পুনর্বিবেচনায় জামিন দেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত মির্জা ফখরুলের আবেদন মঞ্জুর করে বিকাল ৪টায় জামিনে মুক্তির আদেশ দেন। গত বছরের ৫ জানুয়ারি সরকারবিরোধী হরতাল-অবরোধে ২০-দলীয় জোটের আন্দোলনের সময় পল্টন থানার নাশকতার ওই তিন মামলায় মির্জা ফখরুলকে সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। ওই জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিলে গেলে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে মেয়াদ শেষে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেন।

 

খবরটি সংগ্রহ করেনঃ- আই-নিউজ২৪.কম
এই খবরটি মোট ( 729 ) বার পড়া হয়েছে।
add

Share This With Your Friends